musleh uddin raju

ধর্মীয় অঙ্গন থেকে রাজপথের আদর্শিক লড়াইয়ে: মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু

পিতার আদর্শ ও গুরুর স্নেহে গড়া নেতৃত্ব, নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের ছাত্র-রাজনীতিতে এক তেজোদীপ্ত নেতৃত্বের নাম মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু। ছাত্রদের জাগরণ ও রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল সর্বজনবিদিত। তবে তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তি গড়ে উঠেছে পারিবারিক ঐতিহ্য এবং গুরুর প্রগাঢ় সান্নিধ্যে।

তিনি প্রখ্যাত আলেম, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ও ঐতিহাসিক ইসলামী আন্দোলনের নেতা আল্লামা নুর উদ্দীন গহরপুরী (রহ.)-এর সুযোগ্য সন্তান। এর পাশাপাশি মাওলানা রাজু উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.)-এর স্নেহধন্য শিষ্য। এই দুই প্রাজ্ঞ ব্যক্তির আদর্শই তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

মাওলানা রাজুর পিতা আল্লামা নুর উদ্দীন গহরপুরী এবং তাঁর উস্তাদ আল্লামা আজিজুল হক (রহ.)-এর মধ্যে ছিল এক নিবিড় ও আদর্শিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক। ধর্মীয় অঙ্গন থেকে শুরু করে রাজপথের যেকোনো আন্দোলন—সব বিষয়ে তাঁরা একে অপরের পরামর্শক হিসেবে ভূমিকা পালন করতেন। এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের পারস্পরিক নির্ভরতা এবং যৌথ দূরদর্শিতার উত্তরাধিকার বহন করছেন মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু। বাবার কাছ থেকে রাজনীতির প্রাথমিক দীক্ষা আর গুরুর কাছ থেকে ইলমের প্রজ্ঞা নিয়েই তিনি জনসেবার পথে পা বাড়িয়েছেন।

আল্লামা নুর উদ্দীন গহরপুরীও রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জেনারেল আতাউল গণী ওসমানী-এর সাথে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। পিতার এই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা এবং জনকল্যাণের আদর্শই মাওলানা রাজুকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি এখন পিতার যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করতে চান এবং দেশের মূল ধারার রাজনীতিতে ইসলামের আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।

কেবল রাজপথের সৈনিক হিসেবেই নয়, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু বর্তমানে বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের শীর্ষস্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজন। তিনি এখন আল-হাইআতুল উলইয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ (হাইআ) এবং ঐতিহ্যবাহী বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)-এর মতো সর্বোচ্চ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সিনিয়র ও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। শিক্ষাবোর্ডগুলোতে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, ধর্মীয় শিক্ষার সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কওমি সনদের স্বীকৃতি-পরবর্তী বিভিন্ন নীতি নির্ধারণে তাঁর প্রজ্ঞা ও সিদ্ধান্ত বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, একজন লড়াকু সৈনিক একইসাথে সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনারও প্রধান কারিগর হতে পারে।

মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুর দীর্ঘ রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও পারিবারিক অভিজ্ঞতার নির্যাস এবার তাঁকে এক নতুন পথে নিয়ে এসেছে। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। রাজপথের সাহসী সৈনিক, পিতা আল্লামা গহরপুরী এবং শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের আদর্শবাহী শিষ্য হিসেবে তাঁর লক্ষ্য হলো—জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি কল্যাণমুখী সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখা। নব্বইয়ের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা এখন সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। তাঁর মতো একজন আদর্শনিষ্ঠ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তির সংসদীয় রাজনীতিতে আগমন দেশের সুস্থ রাজনীতির জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

– এডমিন

ফটো গ্যলারী