musleh uddin raju

নির্বাচনী ইশতেহার

১. ক.মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ইসলামি মূল্যবোধকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সমুন্নত রাখতে জাতীয় সংসদে আমি আপসহীন ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করব।
খ. কুরআন—সুন্নাহর আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে সোচ্চার ভূমিকা পালন করব।
গ. সামাজিক সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ ধর্ম—বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জানমাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।
ঘ. উলামায়ে কেরাম, সুশীল সমাজ, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাই—বোনদের অধিকার রক্ষায় আমি সোচ্চার থাকব।

২. জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক শাসন
ক. আমি নির্বাচিত হলে রাজনীতিতে জবাবদিহিতার একটি নতুন সংস্কৃতি চালু করব।
‘জনতার আদালত’ ও ‘জনতার মুখোমুখি’ শিরোনামে সমাবেশ ডেকে আপনাদের অভিযোগ, প্রশ্ন কিংবা সমালোচনা—সবকিছুর জবাব এবং বার্ষিক হিসাব আমি আপনাদের সামনে পেশ করবো।
খ. আমার কোনো সিদ্ধান্ত ভুল হলে, আপনারা প্রকাশ্যে সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার রাখবেন।
গ. এলাকার মুরব্বি ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত পরামর্শক কমিটির পরামর্শেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঘ. ইনশাআল্লাহ, আমি নির্বাচিত হলে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের মানুষের জন্য ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল কমপ্লেইন বক্সের আওতায় ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন এবং অ্যাপ চালু করব। এর মাধ্যমে দালালের কাছে না গিয়ে সরাসরি এমপির কাছে আপনার সমস্যা, অভিযোগ বা সুপারিশ পৌঁছাতে পারবেন।

৩. গণতন্ত্র রাজনৈতিক সহনশীলতা ও মানবাধিকার

ক. নির্বাচিত হলে আমি হবো দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের প্রতিটি মানুষের এমপি। তাই দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই অধিকারের প্রশ্নে সমান গুরুত্ব পাবেন।

খ. রাজনৈতিক সহিংসতা ও মামলাবাণিজ্য বন্ধ এবং বিরোধী মতের অধিকার
গ. রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কারও ওপর হামলা, মামলা বা অন্য কোনো জুলুমের সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে।

৪. দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা
ক. দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে আমাদের উন্মুক্ত ই—টেন্ডারের মাধ্যমে কাজের ব্যবস্থা করা হবে এবং স্থানীয় প্রভাবশালীর হস্তক্ষেপ চিরতরে বন্ধ করা হবে।
খ. সরকারি স্কুল, মাদরাসা বা যেকোনো স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ বা অর্থ লেনদেন চলবে না।
গ. ঘুস চাইলে সরাসরি এমপি অফিসে অভিযোগ করার ব্যবস্থা থাকবে।
ঘ. সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগ চক্র ভেঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরতে বাজার মনিটরিংব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
৫. আইন—শৃঙ্খলা, পুলিশ সংস্কার ও বিচারপ্রাপ্তি
ক. নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে একটি সমন্বিত ‘নিরাপত্তা পরিকল্পনা’ গ্রহণ করা হবে।
খ. অপরাধ দমনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় থানার সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন পুলিশ ইউনিট বা বিট পুলিশিং কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
গ. পুলিশের টহল কার্যক্রম জোরদার করতে প্রয়োজনীয় যানবাহন বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পুলিশি সেবা দ্রুত পৌঁছাতে পারে।
ঘ. প্রধান প্রধান সড়ক, বাজার এবং জনসমাগমস্থলে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে পুরো এলাকাকে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
ঙ. এলাকার ভূমি অফিস বা থানায় সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হবে।
বিচার পাওয়ার বদলে আদালত যেন ভিকটিমদের জন্য হয়রানির জায়গা না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। মিথ্যা মামলা ও আইনি মারপ্যাঁচে কাউকে যেন জুলুমের শিকার হতে না হয়, সে জন্য সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

চাঁদাবাজি বন্ধ ও ব্যবসায়ী নিরাপত্তা
রাস্তাঘাট, বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলা দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির জুলুম চিরতরে বন্ধ করা হবে।
৬. অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা
ক. নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবহনব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খ. যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও নিরাপদ করে তুলতে প্রয়োজণীয় ব্রিজ, কালভার্ট, বাইপাস ও ওভারপাস স্থাপনের কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
গ. অপরিকল্পিত কালভার্ট বাঁধ নির্মাণের কারণে যে বন্যা ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, তা নিরসন করা হবে।
ঘ. যানজট নিরসনে ব্যস্ততম রাস্তায় স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হবে।
৭. নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানি
ক. স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তন আনা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও উন্নত প্যাথলজিক্যাল সরঞ্জাম বৃদ্ধির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে।
খ. প্রত্যন্ত অঞ্চলের মা ও শিশুদের জন্য চালু করা হবে বিশেষ ‘মোবাইল বা ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক’। গ. দুর্গম অঞ্চলগুলোতে পর্যাপ্ত উন্নতমানের জরুরি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে জরুরি মূহুর্তে রোগীদের দ্রুততম সময়ে সিলেট শহরের বড় হাসপাতালে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়।
ঘ. চিকিৎসা খাতের অরাজকতা, অপ্রয়োজনীয় টেস্ট বাণিজ্য এবং ভেজাল ওষুধের সিন্ডিকেট কঠোরহস্তে দমন করা হবে।
ঙ. এই অঞ্চলের প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।

৯. স্মার্ট রিভার ম্যানেজমেন্ট ও গ্রিন বেল্ট
ক. বালাগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দুঃখ ও দাবির আলোকে বড়ভাগা ও কুশিয়ারা নদীর ওপর কাঙ্ক্ষিত আধুনিক ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
খ. দক্ষিণ সুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জ অঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারার ভয়াবহ ভাঙন রোধে অস্থায়ী বালুর বস্তার পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ‘রিভার ড্রেজিং’ এবং স্থায়ী ও আধুনিক টেকসই বাঁধ নির্মাণ নিশ্চিত করা হবে।
১০. পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়ন কর্মসূচি
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিটি রাস্তার পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল—কলেজ—মাদরাসা), ধর্মীয় উপাসনালয় এবং পরিত্যাক্ত জায়গায় ৫ বছরে কমপক্ষে ১০ লাখ বৃক্ষরোপণ করা হবে।
১১. আধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন
প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক ফায়ার ব্রিগেড ইউনিট বা অগ্নিনির্বাপক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল দিয়ে এলাকাভিত্তিক ‘বিশেষ রেসপন্স টিম’ গঠন করা হবে।
১২. প্রবাসী ওয়ান—স্টপ সার্ভিস সেল
ক. প্রবাসীদের জমিজমা সুরক্ষা, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ ও আইনি সহায়তার জন্য একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কল্যাণ সেল’ চালু করব।
খ. প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সকে সম্মান জানাতে গড়ে তোলা হবে ‘প্রবাসী সেবা তহবিল’, যার মাধ্যমে তাদের পরিবারও বিনিয়োগ সুরক্ষা পাবে।

গ. যেসব প্রবাসী নিজ এলাকায় ব্যবসা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়তে চান, তাদের জন্য থাকবে হয়রানিমুক্ত প্রশাসনিক সহায়তা, শতভাগ নিরাপত্তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ।
১৩. স্মার্ট এগ্রিকালচার ও কোল্ড স্টোরেজ
কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত ফসলের (যেমন: ধান, সবজি) ন্যায্য দাম লাভ করতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া কৃষকদের জন্য বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিতে প্রতি ইউনিয়নে ‘কৃষক বন্ধু সেবা কেন্দ্র’ চালু করা হবে।
১৪. হাকালুকি হাওর ও মৎস্য সম্পদ রক্ষা
এশিয়ার বৃহত্তম প্রাকৃতিক জলাভূমি হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা করে একে একটি আধুনিক মৎস্য ভাণ্ডারে রূপান্তর করা হবে।
খ. মৎস্যজীবীদের স্বার্থ রক্ষায় জলমহালগুলোর ইজারা প্রথায় স্বচ্ছতা আনা হবে এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সাধারণ জেলেদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।
গ. প্রান্তিক কৃষক ও জেলেদের স্বাবলম্বী করতে সুদমুক্ত ও সহজ শর্তে সরকারি ঋণ সুবিধা এবং উন্নত কৃষি সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
১৫. শিল্পাঞ্চল আধুনিকায়ন ও কর্মসংস্থান
ক. ফেঞ্চুগঞ্জের সার কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও দক্ষিণ সুরমার শিল্পাঞ্চলগুলোকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা হবে।
খ. এই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে আউটসোর্সিং বা নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় শিক্ষিত ও যোগ্য তরুণদের জন্য ‘অগ্রাধিকার কোটা’ নিশ্চিত করে এলাকার বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
গ. এ ছাড়া তিন উপজেলা ও সিসিকের একাংশের শিল্পাঞ্চল ও কুশিয়ারা তীরের মেহনতি শ্রমিকদের জন্য দুর্ঘটনাজনিত ‘শ্রমিক কল্যাণ বিমা’ ও বিশেষ রেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
১৬. ‘ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা’ ও ‘স্টার্টআপ ফান্ড’
ক. শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য ‘তরুণ উদ্যোক্তা তহবিল’ গঠন করা হবে। উদ্যোক্তাদের বিনা সুদে বা সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
১৭. মাদকমুক্ত সমাজ ও স্পোর্টস ভিলেজ
মাদক নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে আধুনিক খেলার মাঠ ও ব্যায়ামাগার তৈরি করা হবে, যাতে তরুণরা বিপথগামী না হয়ে মাঠের দিকে ফিরে আসে।
১৮. স্মার্ট সিটি সম্প্রসারণ
সিলেট মহানগরের প্রবেশদ্বার দক্ষিণ সুরমা এবং সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত আংশিক (২৮,২৯,৩০ ও ৪০,৪১,৪২ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকাগুলোকে আধুনিক ‘স্মার্ট সিটি’র সকল সুযোগ—সুবিধার আওতায় আনা হবে। পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে এই অঞ্চলের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও কাদা—মুক্ত রাস্তা নিশ্চিত করা হবে। নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য রাস্তার পাশে উন্নত ফুটপাত, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট এবং নিরাপদ সুপেয় পানির সরবরাহের স্থায়ী সেইফহাউজ গড়ে তোলা হবে।
১৯. শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কারিগরি বিপ্লব
প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ক্লাসরুমের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হবে।
খ. মাদরাসা, স্কুল এবং কলেজের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে আনতে এবং শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে বিশেষ ‘সেতুবন্ধনমূলক সহ—পাঠ্যক্রম’ ও যৌথ শিক্ষা কর্মসূচি চালু করা হবে।
২০. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে শিক্ষক, ইমাম—খতিব, লেখক—সাংবাদিকদের নেতৃত্বে একটি ‘জরুরি রেসপন্স টিম’ গঠন করা হবে।
খ. একটি বিশেষ ‘স্থায়ী দুর্যোগ তহবিল’ গঠন করা হবে।
২১. নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সুরক্ষা
নারীদের আত্মমর্যাদা ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে আধুনিক ও কর্মমুখী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
২২. স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ
সিলেট—৩ আসনের প্রতিটি পরিবার, বিশেষ করে নদী ও হাওর তীরবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোতে শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। জনসমাগমস্থল, বাজার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক পাবলিক টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে।
২৩. ঢাকা—সিলেট মহাসড়ক প্রকল্প
সিলেট—৩ আসনের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা—সিলেট চারলেন মহাসড়ক প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করতে স্থানীয় পর্যায়ে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা হবে।
২৪. মাদরাসা টু ক্যারিয়ার কনসালটেন্সি
মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী আইটি এবং কারিগরি শিক্ষা দিয়ে দক্ষ করে তোলা হবে।
খ. মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিতে বিশেষ ‘গাইডেন্স সেন্টার’ গড়ে তোলা হবে।
২৫. ইমাম—মুয়াজ্জিন ও আলেম কল্যাণ ট্রাস্ট
মসজিদের ইমাম এবং মুয়াজ্জিনদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ‘কল্যাণ ট্রাস্ট’ গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে অসুস্থ বা বয়স্কদের এককালীন অনুদান ও মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে, যা সরাসরি সরকারি ও প্রবাসী অনুদানের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে।

২৬. পর্যটন ও ইকো—ট্যুরিজম
কুশিয়ারা তীরের সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে পর্যটন জোন হিসেবে ঘোষণা করে উন্নত বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া হাকালুকি হাওরকে কেন্দ্র করে ইকো—ট্যুরিজম প্রকল্প চালু করা হবে।
২৭. স্মার্ট লাইব্রেরি ও ফ্রি ওয়াই—ফাই জোন
প্রতিটি ইউনিয়নের মূল কেন্দ্রে একটি ‘স্মার্ট লাইব্রেরি’ এবং নির্দিষ্ট এলাকায় ‘ফ্রি লার্নিং ওয়াই—ফাই জোন’ করা হবে।

২৮. গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের জুলুম বন্ধ ও গ্রাহক সেবার মানোন্নয়ন
বছরের পর বছর ধরে চলা গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক ভুতুড়ে বিলের জুলুম চিরতরে বন্ধ করা হবে। মিটার রিডিং ছাড়া অনুমাননির্ভর বিল কিংবা টেকনিক্যাল ত্রুটির দোহাই দিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ ‘গ্রাহক সহায়তা সেল’ গঠন করা হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের সঠিক ব্যবহার ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হবে।
২৯. শিশুনিবাস
সমাজে অবহেলিত ও অভিভাবকহীন অনাথ—এতিম শিশুদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ—সুবিধা সম্বলিত একটি ‘স্মার্ট শিশুনিবাস’ গড়ে তোলা হবে।